রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগ কর্মীসহ দুই যুবক নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে নং গেটের কাছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মোহাম্মদপুর কবরস্থানের ১নং. আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাসিরকে তার পরিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। আর মুন্না শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মারা যান। পুলিশ জানায়, নিহত দুজনই একই গ্রুপের।
নিহত নাসিরের বন্ধু। শাওন আহমেদ জানান, তিনি নিজে রায়েরবাজার এলাকায় টেলিফোন ও ফ্যাক্সের ব্যবসা করেন। সন্ধ্যায় আমি মোটরসাইকেল চালিয়ে ঢাকা-উদ্যানের দিকে যাই। এসময় নাসির এসে মোহাম্মদপুর সড়কের তৃতীয় মোড়ে নামতে বলেন। সাদেক খান মোটরসাইকেল চালিয়ে কৃষি বাজারের দিকে যাওয়ার সময় তিনি মারামারি দেখতে পান। সেখান থেকে ওই যুবক নাসিরের পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এরপর নাসির মোটরসাইকেল থেকে নেমে কবরস্থানের দিকে দৌড়ে যায়। বেশ কয়েকজন যুবক তাকে অনুসরণ করে কবরস্থানের প্রথম গেটের কাছে নাসিরকে হত্যা করে। শ্যাভন আরও বলেন, ইতিমধ্যেই কৃষি বাজার এলাকায় মারামারি হয়েছে। তবে কি কারণে নাসিরকে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
নাসিরের বড় ভাই ইসলাম বিশ্বাস জানান, তাদের বাড়ি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার পশ্চিম বালিগ্রামে। বর্তমানে নাসির হাজারীবাগ রায়েরবাজার ১২ নম্বর বড়ইখালী স্ট্রিটে থাকতেন। তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তিন বোন ও পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে নাসির ছিলেন চতুর্থ। সন্ধ্যায় তিনি বুজিজি কবরস্থানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। পরে জেনেছি নাসিরকে যারা হত্যা করেছে। তবে মুন্না সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ সুপার ইফতেখার হাসান জানান, দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নাসির ও মুন্না নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়। একজন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ও অপরজন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মারা যান। নিহত দুই যুবক একই গ্রুপের। ধারণা করা হচ্ছে, আগের বিরোধের জের ধরে অন্য গ্রুপের লোকজন দুজনকে খুঁজে বের করে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। এ ছাড়া নিহত মুন্নার নামে ছয় থেকে সাতটি মামলা রয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখছে পুলিশ।