Home বাণিজ্য বরিশালে অভিযানের পরও নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না ডিমের বাজার

বরিশালে অভিযানের পরও নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না ডিমের বাজার

0

বরিশালে খামার থেকে আড়াই লাখের বেশি হাঁস ও মুরগির ডিম মজুদ করার অপরাধে ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করার পর বরিশালে পাইকারি ও খুচরা ডিমের বাজার নজরদারিতে রয়েছে।

গত বুধবার নগরীর হাথুরা খান হিমাগারে অভিযান চালিয়ে ছয় পাইকারকে আটক করা হয়। যে কেউ অনৈতিক উদ্দেশ্যে ডিম সংরক্ষণ করে তাকে সতর্কতা এবং ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হবে, মোট ৩০,০০০ টাকা জরিমানা করা হবে, আর খান কোল্ড স্টোরেজের মালিককে লাইসেন্স না থাকার জন্য ১০,০০০ টাকা জরিমানা করা হবে।

সাত দিনের মধ্যে সব হাঁসের ডিম এবং তিন দিনের মধ্যে সব মুরগির ডিম বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নগরীর ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে এই অভিযান চালানো হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার নগরীর পাইকারি ডিমের বাজার দুর্বল ছিল এবং খুচরা ডিমের বাজার ছিল অস্থির। দাম কমানোর পরিবর্তে শুক্রবারও শহরের বিভিন্ন এলাকার বাজারসহ ওরিগুড়ি পাড়া মহড়ার মুদি দোকানে খুচরা বিক্রেতারা বেশি দামে ডিম বিক্রি করছেন।

এক জায়গায় ডিম বিক্রি হয়েছে ৫০ টন, আরেক জায়গায় একই দামে ৬০ টন। তবে কোনো অঞ্চলেই ৫০ টাকার কম দামে ডিম পাওয়া যায় না বলে ঘন ঘন ক্রেতাদের অভিযোগ।

বন্দর রোড এলাকার ডিম ব্যবসায়ীরা জানান, জরিমানা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নোটিশে আড়াই লাখ ডিম পাওয়া যাচ্ছে না, তবে নগরীতে প্রতিদিন ডিমের চাহিদা ব্যাপক। আড়াই লাখ ডিম এক থেকে দুই দিনের জন্য শহরে সরবরাহ করতে পারে। তাই দাম কমার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ডিম এখনো চড়া দামে পাইকারি কিনতে হচ্ছে। তাই কম দামে বিক্রির সম্ভাবনা নেই।

তারা আরও জানান, যেসব ব্যবসায়ী বেশি বিক্রি করেন তারা সবাই স্থানীয় পাইকারদের মাধ্যমে ঢাকা থেকে ডিম নিয়ে আসেন। তাদের দাবি, দাম বাড়ানো বা কমানোর অধিকার বরিশালের ব্যবসায়ীদের নেই।

ঢাকায় নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী ডিম ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে। তবে বরিশালের বিভিন্ন এলাকার পোল্ট্রি ফার্ম থেকে যারা ডিম সংগ্রহ করেন তারা ইচ্ছা করলে দাম কমাতে পারেন। এ কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

অভিযানের খবরে গত বৃহস্পতিবার শহরের বড়বাজার, চৌমাতা বাজার, নাটুল্লাবাদ বাজার, বাংলাবাজার, পোর্ট রোড বাজার ও সাগরদী বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে নগরীর ডিমের বাজারের কী অবস্থা তা জানতে দেখা যায়।

তানিয়া নামে এক গ্রাহক বলেন, ডিম নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৈনিক উৎস। মাছ-মাংস খাওয়া এড়াতে পারলেও, প্রায় সব শ্রেণীর জনসংখ্যার দৈনিক খাদ্য তালিকায় ডিম অপরিহার্য। তাই দাম বাড়লেও কিছু করা হবে না। ব্রয়লার মুরগির ডিম এক সময় বিনামূল্যে দেওয়া হলেও মানুষ কিনতে নারাজ, এখন ৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। দেশি মুরগি বা হাঁসের ডিম ভুলে গেছেন তিনি।

বরিশাল ভোক্তা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বললে তারা জানান, অসাধু ব্যবসায়ী, মজুদদার এবং যারা অনৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে তাদের দমনে তারা সর্বদা তৎপর রয়েছে। এই ধরনের অপারেশন নিয়মিত সঞ্চালিত হয়। এছাড়া অতিরিক্ত অপচয় ও মুনাফা মজুদ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারদর নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং করা হয় বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version