আষাঢ় মাস শুরু হলেও বৃষ্টি না হওয়ায় পুণ্যার্থীদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। এ উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন এলাকা ছিল বিভিন্ন পেশা ও বয়সের মানুষের ভিড়ে।
খবরে জানা গেছে, ঈদ উদযাপন ও কোরবানি দিতে কক্সবাজারে অনেক পর্যটক এসেছেন। হোটেল মালিকরা ঈদুল আজহায় পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে 40% ছাড় দিয়ে হোটেল বুকিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন। এ কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হোটেল-মোটেল বুকিং হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম সিকদার বলেন, কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউস পর্যটকদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। তারা চমৎকার সেবা প্রদানের চেষ্টা করে। তবে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, ঈদুল আজহায় বুকিং আশানুরূপ করা হয়েছে।
সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ছাতা চেয়ার এবং পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য পর্যটকদের বিভিন্ন উপায়ে বিক্রেতারা স্থাপন করেছেন। ট্যুরিস্ট পুলিশ সবসময় সতর্ক থাকে এবং পর্যটকদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেয়। এটাও প্রতীয়মান হয় যে হোটেলিয়ার্স, মোটেল এবং ইনস অ্যাসোসিয়েশন ক্রমাগত পর্যটন জীবনের ইনস এবং আউট সম্পর্কে শিখছে। ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাব্বানী পয়েন্ট, সুগন্দা পয়েন্ট, কালত্রী ডলফিন পয়েন্ট ও হিমাচলী পয়েন্টে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। কক্সবাজারের স্থানীয় পর্যটক পিয়াসুরকেও সমুদ্র সৈকতে দেখা যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পর্যটকদের সঙ্গে।
কর্মকর্তারা বলছেন, পরের সপ্তাহান্তে শুক্রবার ও শনিবার পর্যন্ত পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন চলাচল করায় কক্সবাজারে পর্যটকদের আনাগোনা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন একাধিক পর্যটন কর্মী।
তবে সেন্ট মার্টেনে পর্যটকরা আর যেতে না পারায় কক্সবাজারে পর্যটকের প্রবাহ কিছুটা কমেছে। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক বিশ্রামের কারণে টেকনাফ সেন্ট মার্টেন ক্রুজ শিপ স্থগিত করায় পর্যটকরা সেন্ট মার্টেনে যেতে পারবেন না।
এই বর্ষাকালেও ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য সুখবর রয়েছে এবং সেন্ট মার্টেন ভ্রমণের সুযোগ নেই।
পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানি তাদের আগের শুল্ক কমিয়ে নতুন শুল্ক চালু করেছে। একই সময়ে, কক্সবাজারের হোটেল এবং মোটেলগুলি পর্যটকদের জন্য 40% ছাড় দিয়েছে।