বরিশাল শহরের ঈদগাহ ময়দানের কাছে ভাটার খাল বস্তিতে হামলা-পাল্টা হামলায় গুরুতর আহত বিএনপিপন্থী তিন সন্তানের জননী মায়া বেগম বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। .
এ খবর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে রোববার মধ্যরাতে রাজধানীর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভাটার খাল এলাকার বাসিন্দা ও মৃত মায়া বেগমের স্বামী রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ২৮ অক্টোবর একই এলাকায় হামলা হয়।
আওয়ামী সমর্থনকারী রুহুল সহ স্থানীয় তানিয়া বেগম ও শিল্পী বেগমের ঘরে হামলা চালায় ভাটার খাল বস্তির বাসিন্দা মোবারক হোসেন জিদনী, লাদেন, হাসানসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী। ওইসময় হামলাকারীরা নিহত মায়া বেগম, তানিয়া বেগম ও শিল্পী বেগমকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুরে মারা যান মায়া বেগম।
গৃহবধূর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে।
মায়া বেগম এক প্রতিবন্ধীসহ তিন সন্তানের জননী। তার কোলের ছোট্ট শিশুটির বয়স তখন মাত্র ছয় মাস।
এ ঘটনায় বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ভাটার খাল বস্তির বাসিন্দা মোবারক হোসেন জিদানী সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দিন রুহুল আমিন ও তার লোকজন প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা ও পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। তবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ হামলা করেনি।
বরিশালের মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে মারা যাওয়া মায়া বেগমের স্বজনদের থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্যও পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ নিখুঁতভাবে বিষয়টির তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।