Home বাণিজ্য ১১ শতাংশে পৌঁছেছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি

১১ শতাংশে পৌঁছেছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি

0
0

গত বছরের মে মাসে দেশের সামগ্রিক বাজার মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশে। এটি খাবারের উপর একটি বড় প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে, কিন্তু মে মাসে বেড়ে 10.76 শতাংশ হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

তবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) মনে করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সরকারি অনুমানের চেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যে এমন মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। গতকাল বিবিএস চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে 9.89%।

মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৭৪ শতাংশ। এর মানে হল মাসে গড় মূল্যস্ফীতি 0.15 শতাংশ কমেছে। মে মাসে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯.১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে সরকারি উদ্যোগ কাজ করছে না।

মুদ্রাস্ফীতি রোধে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ানো হয়, কিন্তু আইএমএফের শর্ত পূরণের জন্য মুদ্রার মূল্য অবমূল্যায়ন করা হয়। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। মুদ্রাস্ফীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মে মাসে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্য মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল 10.22% কিন্তু মে মাসে বেড়ে 10.76% হয়েছে।

শহরগুলোতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেশি। গত বছরের মার্চে এই সংখ্যা ছিল ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত বছরের অক্টোবরের শুরুতে খাদ্য মূল্যের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

বিআইডিএসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে খাদ্যমূল্যের মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বিপর্যস্ত। মাছের দাম ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। গত এক বছরে মাছের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি। এরপরই আসে মুরগির দাম। দেশের পোল্ট্রি ফিডের বেশির ভাগই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। গত দুই বছরে আমদানি করা এসব খাদ্যপণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

মুদ্রাস্ফীতির বিষয়ে বিআইডিএস-এর সিইও বিনায়ক সেন বলেন, শুধুমাত্র সুদের হার বাড়ানো বা এই ধরনের ব্যক্তিগত পদক্ষেপ নিয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এ ছাড়া শুল্ক কমানোর সঙ্গে সমন্বয় করে বেশ কিছু উদ্যোগ নিতে হবে।

বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে এপ্রিলে শহরাঞ্চলে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৭২ শতাংশ, যেখানে গ্রামাঞ্চলে ছিল ৯.৯৯ শতাংশ। তবে মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরে বেশি ছিল। অখাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি ছিল।

অন্যদিকে, দেশে মূল্যস্ফীতির সমান হারে মজুরি বাড়ছে না। এর মানে হলো দেশে মানুষের খরচ আয়ের চেয়ে বেশি। বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মে মাসে দেশের মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আগের মাসে এই সংখ্যা ছিল ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৯.৮৯ শতাংশ। এর অর্থ আয়ের তুলনায় ব্যয় প্রায় 2 শতাংশ বেশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here