Home বাংলাদেশ নোয়াখালীতে বৃষ্টি থেমে গেলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

নোয়াখালীতে বৃষ্টি থেমে গেলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

0
0

বৃষ্টি কমলেও নোয়াখালীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। উজান থেকে এখনো পানি আসছে। আতঙ্কে রয়েছে ওই এলাকার প্রায় দুই লাখ বাসিন্দা।

আজ সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাইজদী জেলা শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও চিফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসহ প্রায় সব সড়কই হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে। শহরের অধিকাংশ বাড়িতেও বন্যার পানি ঢুকেছে। বন্যার কারণে শহরের সড়কে রিকশা ও অটোরিকশার যান চলাচলও কম। মানুষ হাঁটছে আর পানির উপর পা রাখছে।
জেলা শহরের মাজদীর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের পাশের বাড়ির বাসিন্দা গৃহবধূ সানজিদা আক্তার জানান, পানির কারণে তিনি চার দিন ধরে গৃহবন্দি রয়েছেন। বাড়ি থেকে বের হলে উঠোনে পানি প্রায় কোমর-গভীর। ঘরেও পানি ঢুকেছে। কোনম যখন গ্যাস সিলিন্ডার বিছানায় রেখে দেয়, তখন সে রান্না করে। তিনি আরও বলেছিলেন যে আশেপাশের মুদি দোকানগুলি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। সময় চিহ্নিত করার সময় বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাও অসম্ভব। জল ভর্তুকি না হলে, আপনাকে আগামীকাল থেকে খাওয়ানো বন্ধ করতে হবে।

সেনবাগ ও বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা জানান, ফেনী থেকে তাদের এলাকায় পানি ঢুকছে। তাই বৃষ্টি কমে গেলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। খোরশেদ আলম, ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. সেনবাগ পৌরসভার ৮নং কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, আজ দুপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়। বন্যার কারণে তার সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তার ঘর হাঁটু পর্যন্ত।

বন্যার পানিতে ডুবে সেনবাগড। মাহবুব (৬ বছর) নামে এক প্রতিবন্ধী শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেব উল্লাহর বাড়িতে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের ১. শিশু মাহবুব এ বাড়ির সৌদি প্রবাসী। সোহেলের ছেলে। কাবিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নেতা আনোয়ার হোসেন ওরফে বাহার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বেগমগঞ্জের হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মানিক জানান, বন্যার পানিতে বাড়ির বিছানা তলিয়ে যাওয়ার কথা। চারদিন বাড়িতে কিছুই রান্না হয়নি। দূরের দোকানে শুকনো খাবার কিনে খেতে হবে।

জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নোয়াখালী জেলায় সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ২৪ ঘণ্টার প্রায় অর্ধেক। তিনি আশা করছেন, বৃষ্টি ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, জেলার আটটি উপজেলায় বর্তমানে ২০ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়িতে আটকা পড়েছে। জরুরী আবাসিক ভবনগুলিতে প্রায় ৭৬ হাজার লোককে রাখা হয়েছিল। এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন সরকারি বরাদ্দ হিসেবে ৫০৫ টন চাল ও নগদ ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রদান করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here